জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ

এর একটি উদ্যোগ

সহযোগিতায়ঃ

গোল্ডফিশের কান্না

একটা বিল্ডিং-এর মূল্য

তোমার ছেলের জীবনের চেয়ে অনেক বেশি।

একটা ওভারব্রিজের দাম

তোমার হাজার ছেলের লাশ দিয়েও কি চুকাতে পারবে?

একটা মেট্রোস্টেশন কি গর্ভে ধরতে পারবে তুমি?

কী আছে তোমার অপত্য স্নেহে?

গাড়িগুলো বাসগুলো যে পুড়ে গেল

তোমার ছেলেদের রক্তমাংসে তো আর

চলবে না এদের ইঞ্জিন!

মেট্রো কি আর তোমার ছেলেদের

দু:সাহসের বিদ্যুতে ছুটবে?

বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল কি

তোমার জানাজার কান্নায় আদায় হবে?

কী করে জন্ম দিলে এমন সন্তান?

ভয় পায় না দিতে জান!

যেদিন তোমার পেটে ধরতে পারবে

আস্ত একটা মেট্রোরেল,

যেদিন তোমাদের কোলে দোলাতে পারবে

একটা গোটা দেশের ডেটা সেন্টার

যেদিন তোমার স্তন থেকে দুধ না

ঝরবে বিটিভির বাম্পার ফলনের সংবাদ

যেদিন তোমরা মানুষের বাচ্চা না,

জন্ম দিবে বাস-ট্রাক, ওভারব্রীজ

সেদিন বুঝতে পারবে,

একটা বিল্ডিংয়ের মূল্য

তোমার রক্ত-মাংসের সন্তানের চেয়ে

আসলেই অনেক বেশি।

তখন চুমু খেয়ো ঐ ইট সিমেন্টের শরীরে

গাড়িগুলোকে পাশে শুইয়ে দিও হাত বুলিয়ে

পদ্মাসেতুটাকে পাঠিও ভার্সিটিতে,

পাবলিকে নাহয় প্রাইভেটে

আর রাতে ঘরে ফেরার অপেক্ষা করো

প্রিয় ওভারব্রীজ-টার, স্টেশন-টার।

মুখে ভাত তুলে খাইয়ে দিও বিটিভি-টাকে।

‘বাবা’ বলে ডেকো শখের মেট্রোরেল-টাকে।

আর ভুলে যেও, সব ভুলে যেও।

রক্ত মাংসের কোনো ছেলে ছিল তোমার

পেটে ছিল পিঠে ছিল কোলে ছিল

ভুলে যেও, তুচ্ছ নগণ্য ঐ মনুষ্য সন্তান

কখনও তোমাকে মা ডেকেছিল

তোমার ঘরে এখন বিটিভি,

তোমার বিছানায় এক্সপ্রেসওয়ে

তোমার আচল ধরে আছে মেট্রোরেল

আর কী চাই তোমার?

যাও চুমু খেয়ে নাও ভবনটাকে, চেয়ারটাকে, হেলিকপ্টার-টাকে!

তারপর ঘুমিয়ে যাও

সকালে আবার তোমার বিল্ডিংগুলোর ক্লাস আছে।