আমি স্পার্টাকাস: ভিসুভিয়াসে অপেক্ষায়
রোম বিজয়ের সংকল্পে,
আমি আব্রাহাম: গেটিসবার্গ মঞ্চে,
কথা বলি গণতান্ত্রিক এক স্বপ্ন-রাষ্ট্রের।
আমি চে, অনুরণিত হই
লাতিন আমেরিকার প্রলেতারিয়েত কণ্ঠস্বরে।
আমি আবু সাঈদ, চল্লিশ সিনায় দাঁড়াই
অবিচল, নিঃশঙ্ক নুরলদীনের জমিনে।
আমি চব্বিশের নূর হোসেন, জেদি, ভয়হীন
এক জীবন্ত পোস্টার; বেগম রোকেয়ার রঞ্জিত রাজপথে।
আমি সুকান্তের সুতীব্র চিৎকার তাহমিদের স্লোগানে।
আমি ববি স্যান্ডস─ বেলফাস্ট ছেড়ে এসেছি
রুদ্র সেনের দুটি পাতা একটি কুঁড়ির শ্রীহট্টে।
আমি বব ডিলানের গিটার: বেজে উঠি দীপ্ত দের
একুশের যৌবনে।
আমি ঘুরে দাঁড়াই তারামন বিবি হয়ে,
নুসরাতের শরীরে, ভয়ের চাদর ঝেড়ে
মহাকাল মাড়িয়ে।
আমি ফিরে আসি উনসত্তরের মতিউর
আর আসাদ হয়ে, ফারহান আর বাবাইয়ের
স্বপ্ন-নীল চোখে।
আমি মুগ্ধ, ভিস্তিওয়ালা
‘পানি লাগবে কারও? পানি?’─ খুঁজে ফিরি
ঘামে-ভেজা, মিছিল-ক্লান্ত তৃষ্ণার্ত মানুষকে
বাংলার রাজপথে।
আমি কুরমান শেখ: করজোড়ে এক পায়ে অসহায় দাঁড়িয়ে
প্রাণভিক্ষার অপেক্ষায় তোমার রাইফেলের সামনে,
আশা জাগে মনে, গুজরাট দাঙ্গায় কুতুবউদ্দিন আনসারির মতো,
আমিও হয়তো বেঁচে ফিরব কালুখালীর রতনদিয়া গাঁয়ে।
ফিরেছি শেষে, বক্ষে নিয়ে স্মারকচিহ্ন,
একটি পা-ও ভারী হয়ে গেছে স্থির বুলেটে,
শিল্পীর জন্য আজীবন তুলে রাখা কপোলে
হঠাৎ দখল নিয়েছে অগুনতি ছররা গুলির ক্ষত।
আমি আহাদ, অ্যালান কুর্দির মতো
নিথর মুখ গুঁজে আছি, বাবার গহিন ছাতিতে!
তোমাদের হায়াহীন অবয়বকে পেছনে ফেলে।
আমি শাফকাত, অভিমান করেছি,
ফিরব না আর তোমাদের অনিরাপদ জনপদে।
ভাবছ, তোমার যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলায়
ভয় পেয়েছে, রিয়া, সবুর কর, ঐ সিরিয়ান বালকের মতো
আমিও কিন্তু বিধাতাকে বলে দিতে পারি তোমার পাপের সাতকাহন।
তুমি চেপে ধর আমার মুখ, আর আমি ভয় ভেঙে
রুখে দেই তোমার প্রিজনভ্যান।
আমি উষ্ণ আগ্নেয়গিরি, জীবন্ত লাভা নিয়ে প্রস্তুত আমার
শত জ্বালামুখ। উদিত সূর্যের মতো আমাদের সময়,
মধ্যগগনে জ্বলে উঠি ভোরের ক্লান্তি ঝেড়ে।
আমরা পিষ্ট হই না তোমার বুটের তলে,
বুলেটের ঝাঁক আর কপ্টারের শব্দ
ফেরাতে পারে না আমাদের রক্তের বান।
আমরা আবাবিল পাখি, আব্রাহার অহং ধুলোয় মিশাই।
আমরা ফিনিক্স অগ্নিপাখি,
গ্রিক পুরাণ ছেড়ে ফিরে ফিরে জন্মাই
এই বাংলায়, কোনো এক প্রীতিলতার জরায়ুতে।
Copyright © July Graffiti by Bangladesh Free Press Initiative
Follow us on Facebook