জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ

এর একটি উদ্যোগ

সহযোগিতায়ঃ

ঝরা পাতার নৃত্য

পুকুরের পানির মতো এ নিস্তরঙ্গ মৃত্যুর শহরে আচমকা এ-কি
জীবনের উন্মাদনা! যে ছিলো অচল, ছুটছে সে উল্কার গতিতে।
যে ছিলো নিথর, উড়ছে সে ঈগলের অধীর ডানায়। কী হলো হঠাৎ
এই ভূতের শহরে, বয়সের ভারে নুব্জ বৃদ্ধ ও বৃদ্ধারা ফিরে পেয়ে
হারানো যৌবন, ছুটছে ক্ষিপ্রবেগে যেন ষাঁড়; তরুণ ও তরুণীরা যেন ঝড়,
ভেঙেচুরে ফেলছে সব হারকিউলিসের মতো— মুখ থুবড়ে পড়ছে স্ফিংস,
কারুনের বালাখানা, ফারাওয়ের মসনদ। এভাবে হঠাৎ করে কোথা থেকে
নেমে এলো জীবনজোয়ার মরে কাঠ হয়ে পড়ে থাকা শুকনো পদ্মায়?
আমি হতবাক হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখি আদনান, ফারহান, শাকিল ও
আবু সাইদের রক্তে লাল হয়ে ঈগলের মতো উড়ছে আকাশে আমাদের
প্রাণের পতাকা আর বিশ কোটি বাঙালি ছুটছে ঊর্ধ্বশ্বাসে, কে জানে কোথায়।
থরথর করে কাঁপছে স্বৈরাচার; শুকনো বোঁটায় ঝুলতে থাকা পাকা
সিঁদূরে আমের মতো দুলছে দুঃশাসন যৌবনের ঝড়ে। এ-কি জীবনের
উন্মাদনা দিকে দিকে! যে ছিলো নিষ্প্রাণ, আজ সে জীবন্ত, যে ছিলো নিশ্চল,
আজ সে ঝটিকা হয়ে ছুটছে অশ্বের মতো। তাই দেখে মৃত্তিকায় পড়ে থাকা
ঝরা পাতারাও জীবন্ত ফড়িং হয়ে নৃত্য জুড়ে দেছে একসাথে উন্মত্ত বাতাসে।